উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে জল-ধস, মৃত ৭ শ্রমিক! এখনও আটকে ৩

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা জল ও ধসের মাটি ঢুকে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে মোট ২২ জন শ্রমিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, আরও ৩ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ পিপলকোটির মায়াপুর এলাকার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভিতরে খননের কাজ চলছিল। আচমকা জোরালো শব্দ শোনার পরই প্রবল বেগে জল এবং ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের একটি অংশে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ওই অংশের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়। জল ঢোকার সঙ্গে ধস নামায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী NDRF, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী SDRF, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন করা হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের তেহরি ও চামোলির বাসিন্দা ছাড়াও বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের শ্রমিক রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে পিপলকোটির বিবেকানন্দ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। দু’জন শ্রমিকের হাড়ে চোট লাগার কথাও জানিয়েছে সূত্র।
প্রাথমিক তদন্তে জল চুঁইয়ে পড়া এবং ভূমিধসের জেরেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এত দ্রুত সুড়ঙ্গের ভিতরে জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই সুড়ঙ্গটি ৪৪৪ মেগাওয়াটের বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ। THDC India Limited-এর জন্য প্রকল্পটি তৈরি হচ্ছে এবং নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে Hindustan Construction Company। অলকানন্দা নদীর উপর তৈরি এই প্রকল্পের হেডরেস টানেলের সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলের যোগ রয়েছে।
ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের রাজ্যের শ্রমিকদের বিষয়ে পরিস্থিতি জানিয়েছেন তিনি। আটকে থাকা শেষ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
এই দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২৩ সালের উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের কথা। সেবার ৪১ জন শ্রমিক দীর্ঘ ১৭ দিন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকার পর বহু সংস্থার যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয়েছিলেন। চামোলির সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় তাই উদ্ধারকাজের দিকে এখন গোটা দেশের নজর।

error: Content is protected !!