```html
Temporary Service Notice

WEBSITE
UNDER MAINTENANCE

We are currently experiencing an internal technical issue with our website.

Our technical team is working to resolve the problem and restore all services as soon as possible.

We sincerely apologize for the inconvenience.
Please check back shortly.
```

ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, যুবভারতীতে লাল-হলুদের দাপট!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইতিহাস লিখল ইস্টবেঙ্গল। ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ২২ বছর পর ফের এই ঐতিহ্যশালী ট্রফি জিতল লাল-হলুদ। এই জয়ের ফলে ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ১৭, অর্থাৎ মোহনবাগানের ১৭টি খেতাবের সঙ্গে সমতা ফেরাল তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। দশম মিনিটে বিপিন সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। মাত্র দুই মিনিট পরেই এডমন্ড লালরিন্দিকার দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান হয় ২-০। এরপর ২২ মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আরও এগিয়ে দেন এডমন্ড। প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে মোহনবাগান। ৩৩ মিনিটে ম্যানভীর সিং গোল করে সবুজ-মেরুন শিবিরকে কিছুটা স্বস্তি দেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতির ঠিক আগে, ৪৪ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমন্ড লালরিন্দিকা। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ইস্টবেঙ্গলের ৪-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় মোহনবাগান। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগ নিজেদের জায়গায় অত্যন্ত সংগঠিত ছিল। গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে মোহনবাগানের প্রত্যাবর্তনের রাস্তা বন্ধ করে দেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনও গোল হয়নি এবং ৪-১ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। ইস্টবেঙ্গলের জয়ের মূল নায়ক নিঃসন্দেহে এডমন্ড লালরিন্দিকা। ডুরান্ড কাপের কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নজির গড়লেন তিনি। তাঁর তিন গোলের সঙ্গে বিপিন সিংয়ের গোল মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গলের চার গোল পূর্ণ হয়। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের জন্য এডমন্ডকে ম্যাচের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জয় ইস্টবেঙ্গলের কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০০৪ সালের পর দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ডুরান্ড কাপের ট্রফি তাদের ক্যাবিনেটে আসেনি। ২০০৪ সালে শেষবার মোহনবাগানকে হারিয়েই ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। এবারও ফাইনালে সেই মোহনবাগানকেই হারিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল লাল-হলুদ। চলতি ডুরান্ড কাপের শুরুতে অবশ্য মোহনবাগানের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। ফলে ফাইনালের এই জয়কে সেই হারের জবাব হিসেবেও দেখছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল, অন্যদিকে মোহনবাগান নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে খেতাবি ডার্বির টিকিট নিশ্চিত করেছিল। রবিবারের এই ফাইনাল শুধু ডুরান্ড কাপের ট্রফির লড়াই ছিল না, ছিল কলকাতা ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মর্যাদার লড়াইও। শেষ পর্যন্ত একতরফা দাপট দেখিয়ে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সেই লড়াইয়ে বাজিমাত করল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ জিতে কলকাতার ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল লাল-হলুদ।

error: Content is protected !!