
মমতার নন্দীগ্রাম-চোট নিয়ে ফের বিতর্ক, বাঙুরের রিপোর্ট সামনে এনে তদন্তের ঘোষণা শুভেন্দুর
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ওই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার বা হাড় সরে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে তিনি বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের ২০২১ সালের দুটি মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কথাও জানান। সংবাদ প্রতিদিনের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাঙুরের নথিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ হাঁটুর সিটি স্ক্যানের উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্টে হাঁটুর চারপাশের নরম টিস্যু স্বাভাবিক থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে এবং বয়সজনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নথিতে ‘ইনজুরি’ বা আঘাতের কেস হিস্ট্রির উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের পালটা দিয়ে দাবি করেছেন, ফ্র্যাকচার না থাকলেও নরম টিস্যু, পেশি বা হাড়ে গুরুতর আঘাত হতে পারে এবং সেই কারণেই চিকিৎসকেরা ব্যান্ডেজ বা অন্য চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ করে ব্যক্তিগত চোটকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনারও সমালোচনা করেছেন। ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ পা ও কোমরে চোট লাগে এবং পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তিনি প্লাস্টার করা পা নিয়ে হুইলচেয়ারে নির্বাচনী প্রচার চালান। বর্তমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ৯ অক্টোবরের পর মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট উঠে গেলে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে এবং তদন্ত এগোনোর কথা রয়েছে। তবে বাঙুরের রিপোর্টে ফ্র্যাকচার না থাকার তথ্য থেকে সরাসরি মমতার কোনও চোটই হয়নি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না; রিপোর্টে ‘ইনজুরি’ কেস হিস্ট্রির উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও চিকিৎসাগত ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট।

