এক পায়ে ৪০০ মিটার লাফিয়ে স্কুলে, ৭ বছরের রাগিনীর আর্জিতে সাড়া প্রশাসনের, পেল ট্রাইসাইকেল

এক পায়ে ভর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিটার রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে যেত সাত বছরের রাগিনী। মাত্র ছয় মাস বয়সে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় হারিয়েছিল একটি পা। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পড়াশোনার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন এক পায়ে লাফাতে লাফাতে পথ পেরোত ছোট্ট মেয়েটি। ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাস্তার ধারে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ফের শুরু করত পথচলা। (sangbadpratidin.in) রাগিনীর বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। তাই মেয়ের জন্য কৃত্রিম পা কিংবা বিশেষ কোনও যানবাহনের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না। অথচ পাড়ার অন্যান্য শিশুরা যখন স্কুলে যেত, তখন রাগিনীও পড়াশোনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করত। মায়ের কাছে তার একটাই আবদার ছিল—সেও স্কুলে যাবে, সেও পড়বে। সেই ইচ্ছাশক্তি থেকেই এক পায়ে লাফিয়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করে সে। সম্প্রতি রাগিনী একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বালিয়ার জেলাশাসকের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। তার সরল আবেদন ছিল, তাকে যেন একটি তিন চাকার সাইকেল দেওয়া হয়, যাতে সে সহজে স্কুলে যেতে পারে। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাগিনীর জীবনসংগ্রামের কথা সামনে আসে। (sangbadpratidin.in) সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ রাগিনীর পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান। বিষয়টি নজরে আসে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। সংবাদমাধ্যমে রাগিনীর লড়াইয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত রাগিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি ট্রাইসাইকেল। পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার আর এক পায়ে লাফিয়ে দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে যেতে হবে না ছোট্ট রাগিনীকে। (sangbadpratidin.in) শুধু প্রশাসনই নয়, রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংও ভিডিওকলে রাগিনী এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর তরফে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাগিনীর এই লড়াই ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে। মাত্র সাত বছর বয়সে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ দেখিয়ে দিয়েছে, সুযোগের অভাব থাকলেও ইচ্ছাশক্তি মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। (sangbadpratidin.in) রাগিনীর গল্প তাই শুধুমাত্র একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার গল্প নয়। দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েও সে যে ভাবে নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছে, তা সমাজের কাছে বড় বার্তা। প্রতিদিনের ৪০০ মিটারের কঠিন পথ তার কাছে ছিল শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। এবার প্রশাসনের দেওয়া ট্রাইসাইকেল সেই পথকে কিছুটা সহজ করবে। রাগিনীর চোখে এখন আরও বড় স্বপ্ন—নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করা।

error: Content is protected !!