
‘আমি নয় আমরা-ই তৃণমূলের স্লোগান’, দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা মমতার
একতার বার্তা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পশ্চিম মেদিনীপুরের কর্মী সম্মেলন থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, “দলে কেউ কেউকেটা নয়। যাঁরা মানুষের কাজ করবে না তাঁরা ঘরে বসে যান, আমি নয় আমরা-ই তৃণমূলের স্লোগান। মানুষের পাশে দাঁড়ালে তবেই নেতা।” এদিন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতার কড়া বার্তা, “কেউ বাড়াবাড়ি করলেই আমি ঘ্যাঁচাং ফু করে দেব। একদম কেটে দেব নাম। ব্লকে ব্লকে মিটিং করে পুরনো কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে হবে। যে কাজ করবে না তাঁকে বলব, অনেক করেছেন। দয়া করে ঘরে বসে যান।” এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক থাকবে, সেখানে বুথ কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলব। বুথ কর্মীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের আসল সম্পদ। নেতা গাছ থেকে পড়ে না, কাজের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়। মানুষের পাশে যে দাঁড়ায়, সেই নেতা। কিছু লোক আছে যাঁরা কুকর্ম করে, তাঁদের মানুষ চিনে নেয়। যারা মাঠে বসে থাকে তাঁরাই দলের আসল কর্মী। যাঁরা মঞ্চে বসে থাকেন তাঁরা বড় নন। মাঠে যারা বসেন তাঁরাই বড়। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ নেতা কাজের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়। যে কাজ করে সেই নেতাদের আমি পছন্দ করি। সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় কাজ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে হবে। যে মানুষের পাশে দাঁড়ায় সেই আসল নেতা। মঞ্চে বসে থাকে হাতে গোনা কজন। আর নীচে বসে থাকে লক্ষ লক্ষ জন। কারা বড় কর্মী, সেটা মানতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস একদিন সারা বিশ্ব জয় করবে। মানুষ যাদের ভালোবাসে না, আমিও তাদের ভালোবাসব না। এই জেলা সংগ্রামের জন্ম দেয়। তাই ৯ অগাস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে ফের মেদিনীপুরে আসব।’ মমতা জানান, ‘বেলপাহাড়িতে একসময় মানুষ পিঁপড়ে খেয়ে থাকত। এখন সেখানে সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধার প্রকল্প মিলছে। একদিন মিষ্টি না খেয়ে যিনি খেতে পাচ্ছেন না তাঁর কাছে গিয়ে বলতে হবে মাসিমা আপনি খান।’ তবে লক্ষ্যণীয় ভাবে এদিনের সভা থেকে মমতা দিল্লি জয়ের ডাকও দিয়েছেন। বলেছেন, ‘তৃণমূলকে দেশের অন্যতম শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের চিন্তা ভাবনাই সকলের থেকে শ্রেষ্ঠও। আজ আমরা যা ভাবি গোটা দেশ অনেক পরে তা ভাবে। রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার মধ্যেই দলকে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। নতুন দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের প্রত্যেক দরজায় গিয়ে কাজ করতে হবে। লোকের কী অসুবিধা আছে হিয়ে জানতে হবে।’ এদিন কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা লড়াই করতে হবে। মা-বোনেদের এগিয়ে দিতে হবে। যারা মানুষের কাজ না করে নিজের কাজ করছেন, ঘরে বসে যান। মেয়েদের বেশি করে সংগঠনের সামনের সারিতে আনতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস আমার সৃষ্টি, সেই সৃষ্টি বৃথা যেতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেস ভারতকে পথ দেখাবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দিল্লিও হাতের মুঠোয় হবে।”

