
পুজো মিটলেই ৩০ লক্ষ পরিবারকে প্রথম কিস্তির ₹৬০ হাজার, আবাস যোজনায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
গ্রামের মানুষের পাকা বাড়ি তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় চলতি অর্থবর্ষেই ৩০ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজো শেষ হলেই নির্বাচিত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ₹৬০ হাজার টাকা সরাসরি পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৪.৫৯ লক্ষ গ্রামীণ আবাস উপভোক্তার নাম হাতে এসেছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৫ লক্ষ মানুষের নাম নথিভুক্ত হয়েছে এবং তিন দফায় তাঁদের বাছাইয়ের কাজ চলছে। অযোগ্য বা ভুয়ো নাম যাতে কোনওভাবেই তালিকায় ঢুকে না পড়ে, সেই কারণে একাধিক স্তরে যাচাই করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রায় ৪৪.৫ লক্ষ নাম পাওয়া গিয়েছে, পাশাপাশি অন্তত ১০ লক্ষ আবেদন এসেছে অনলাইনে। এরপর বিডিও অফিসের তরফে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। প্রতিটি বিডিওকে অন্তত আরও ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে রিচেক করতে বলা হয়েছে। জেলাস্তরেও ২ থেকে ৩ শতাংশ আবেদন পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, স্বজনপোষণ বা দুর্নীতির অভিযোগের কোনও সুযোগ না রেখে প্রকৃত যোগ্য পরিবারগুলির কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং দুর্গাপুজোর পরই প্রথম কিস্তির ₹৬০ হাজার দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাড়ির নির্মাণকাজ কতটা এগিয়েছে এবং নির্দিষ্ট হিসাব ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সাধারণ এলাকায় পাকা বাড়ি তৈরির জন্য মোট ₹১ লক্ষ ২০ হাজার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ক্ষেত্রে এই সাহায্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ ₹১ লক্ষ ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও শৌচালয় নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ₹১২ হাজার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তৈরি হতে যাওয়া পাকা বাড়ির ন্যূনতম আয়তন ২৫ বর্গমিটার রাখার নির্দেশ রয়েছে এবং রান্নার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত জায়গার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তবে টাকা দেওয়ার আগে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে জেলায় জেলায় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা, শৌচালয় নির্মাণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক চলছে। ফলে দুর্গাপুজোর পরেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে।

