
‘মা-বোনেদের সুরক্ষায় পুলিশকে খোলা হাত দিয়েছি’, জোড়া এনকাউন্টার নিয়ে রায়গঞ্জে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা শুভেন্দুর
রাজ্যে পরপর দুটি পুলিশি এনকাউন্টারে দুই অভিযুক্তের মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য। রায়গঞ্জের একটি সভা থেকে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবে। তাঁর কথায়, “পুলিশকে খোলা হাত দিয়ে এসেছি।” পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যারা মা-বোন ও মেয়েদের অসম্মান করবে, তাদের পরিণতি কী হচ্ছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে। এই বক্তব্যকে সম্প্রতি রাজ্যের দুটি এনকাউন্টারের ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এবং মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পালটা গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়। গাইঘাটার ঘটনায় নিহত প্রহ্লাদ দাসের বিরুদ্ধে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে, সামশেরগঞ্জে নিহত সামাউল শেখ ব্যবসায়ী সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। দুই ক্ষেত্রেই পুলিশের বক্তব্য ও ঘটনার পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এনকাউন্টার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলিও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং ঘটনার ভিডিওগ্রাফি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে মহিলাদের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা, অন্যদিকে পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি—দুই বিষয়ই রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত পরিস্থিতি নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

