
অর্জুন সিং-কৌস্তভ বাগচীর সংঘাত আরও তীব্র! উত্তম দাসদের বিজেপিতে নেওয়া নিয়ে দুই শিবিরে বিভক্ত বারাকপুর
বারাকপুরে দুই প্রাক্তন তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে নেওয়ার জল্পনাকে কেন্দ্র করে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। অর্জুন সিং ও কৌস্তভ বাগচীর মতবিরোধের আবহে এবার কৌস্তভের পাশে দাঁড়ালেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন অর্জুন সিংকে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে উত্তম দাসকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। এই সম্ভাবনার বিরোধিতা করে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের মামলায় উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীর নাম জড়িয়েছিল। তাঁদের বিজেপিতে নেওয়া হলে প্রতিবাদ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। এবার কৌস্তভের অবস্থানকে সমর্থন করে জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, বারাকপুরের বিধায়ক যা বলেছেন, তা তাঁর মনের কথাই। নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কৌস্তভ নিশ্চয়ই প্রমাণ হাতে রেখেই কথা বলেছেন; তিনি দলবিরোধী মন্তব্য করেননি, বরং কাদের দলে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। অন্যদিকে, সুদীপ্ত দাস ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখে অর্জুন সিংয়ের রাজনৈতিক অবদানের পক্ষে সওয়াল করেছেন এবং তাঁকে ঘিরে ওঠা সমালোচনার বিরোধিতা করেছেন। এর আগে অর্জুন সিং কৌস্তভের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি জানেন কীভাবে রাজনীতি করতে হয়। ফলে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধের রূপ নিয়েছে। একদিকে কৌস্তভের আপত্তিকে সমর্থন করছেন দুই বিধায়ক, অন্যদিকে অর্জুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন আরেক বিধায়ক। তবে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা হয়নি। দলীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

