
‘আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখবে না’, জোড়া এনকাউন্টার নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি পৃথক পুলিশ এনকাউন্টারে দুই অভিযুক্তের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এবং মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে এই দুই ঘটনা ঘটে। এনকাউন্টার নিয়ে মুখ খুলে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পুলিশ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের মতো ঘটনায় পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশকে পদক্ষেপ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা সমস্যায় পড়লে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তিনি তাঁদের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। পুলিশের দাবি, দুটি ঘটনাতেই অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের উপর হামলা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। পালটা গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়। গাইঘাটায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় অভিযুক্ত সামিউল শেখের মৃত্যু হয় দ্বিতীয় এনকাউন্টারে। তবে দুই ক্ষেত্রেই পুলিশের বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এই ঘটনার পর দুই মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও এক অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ধরনের একাধিক ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা, অভিযুক্তদের নিরাপত্তা এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

