তৃণমূল ছাড়ার পর প্রথম কর্মসূচি, মমতাকে নিশানা করে বিস্ফোরক কাকোলি ঘোষদস্তিদার

তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর প্রথম কর্মসূচিতে অংশ নিয়েই দলের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন কাকোলি ঘোষদস্তিদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন কাকোলি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন তিনি। দলের একাধিক সাংসদের সঙ্গে তাঁর এই অবস্থান বদল রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। তৃণমূল ছাড়ার পর প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিতে কাকোলির বক্তব্য তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওই কর্মসূচি থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং সরকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রসঙ্গ। কাকোলির বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্ক এখন অতীত এবং তিনি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছেন। এর আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময়ও কাকোলি দলের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে দলের পরাজয়ের জন্য তিনি প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক কৌশলের প্রশ্ন তুলেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের দূরত্ব আরও বাড়ে। পরে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন কাকোলি। সেই গোষ্ঠী সংসদে আলাদা অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। ফলে তৃণমূল ছাড়ার পর প্রথম কর্মসূচিতেই মমতাকে তাঁর নিশানা করা নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কাকোলির মতো দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেত্রীর প্রকাশ্য আক্রমণ দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ছবি আরও স্পষ্ট করছে। অন্যদিকে তৃণমূল শিবির এই ধরনের মন্তব্যকে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পর নতুন সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা হিসেবেও দেখাতে পারে। আগামী দিনে কাকোলি ঘোষদস্তিদার কোন রাজনৈতিক পথে এগোন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য বিদ্রোহী নেতাদের ভূমিকা কী হয়, তা নিয়েও নজর রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাকোলির এই প্রকাশ্য অবস্থান বদল যে বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে, তা বলাই যায়। এখন তাঁর বক্তব্যের পালটা তৃণমূল নেতৃত্ব কীভাবে দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

error: Content is protected !!