
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে নেপালে নিখোঁজ কলকাতার শিকড়ের ব্রিটিশ দম্পতি
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে পড়ে নেপালে নিখোঁজ এক ব্রিটিশ দম্পতি। কলকাতার সঙ্গে তাঁদের গভীর যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ দম্পতির নাম অনল কর এবং সঞ্জুক্তা কর। অনলের বয়স ৫৬ বছর এবং সঞ্জুক্তার বয়স ৫০ বছর। তাঁরা ব্রিটিশ নাগরিক হলেও কলকাতার সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে কাঠমান্ডু পৌঁছেছিলেন তাঁরা। এরপর কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশে নেপালের বিভিন্ন এলাকার দিকে এগিয়ে যান। শেষবার তাঁদের অবস্থান শনাক্ত হয়েছিল নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে তিমুরে এলাকায়। বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর বহু পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ হয়েছেন। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় থাকা একাধিক ভারতীয় এবং বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায়। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ থাকায় নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনল ও সঞ্জুক্তার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের খোঁজ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁদের শেষ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বানের জেরে রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের পক্ষেও দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানেও তৈরি হয়েছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বহু মানুষ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে নেপালে আটকে বা নিখোঁজ রয়েছেন। কলকাতা থেকে যাওয়া ৩২ সদস্যের একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর সামনে এসেছে। ওই দলের সদস্যরা ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিলেন এবং ২২ আগস্ট নেপালে পৌঁছেছিলেন। নেপালের এই ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ এখনও নিখোঁজ। উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও নদীর গতিপথে পরিবর্তনের কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধার মুখে পড়ছে। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ নেপালের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপদে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অনল ও সঞ্জুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবর কলকাতার সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগের কারণে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁদের সন্ধান পাওয়ার আশায় রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হলে নিখোঁজ দম্পতির অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

