নিউমার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, মৃত ৯! মৃতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি, রয়েছে শিশুও

বুধবার ভোররাতে মধ্য কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে প্রথমে জানানো হলেও, পরে বিভিন্ন রিপোর্টে মৃতদের নাগরিকত্ব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি আধিকারিকদের তরফে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। ঘুমের মধ্যেই বিপদের মুখে পড়েন হোটেলে থাকা অতিথিরা। মুহূর্তের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। সংকীর্ণ সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকে। দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃতদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি দুই মহিলার মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা মানুষ ছিলেন। এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি মেডিক্যাল পর্যটকদের থাকার জন্য পরিচিত।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ৬০ থেকে ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। অনেকেই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দ্রুত গোটা বিল্ডিং ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং বেরিয়ে আসার রাস্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকজনের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ছিল না।
আগুনের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে আগুন কীভাবে ছড়াল, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং হোটেলগুলি নিয়ম মেনে চলছিল কি না, সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংকীর্ণ জায়গা, দুর্বল ভেন্টিলেশন এবং সরু বেরোনোর পথ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় থাকা হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এবং নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বহু বাজেট হোটেলের জন্য পরিচিত। ফলে এই ধরনের ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। আগুনের উৎস, হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবনের অনুমোদন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষও কলকাতা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
নিউমার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দু’দিন আগে বীরভূমের তারাপীঠেও একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের হোটেল ও গেস্টহাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

error: Content is protected !!