
আশুতোষ কলেজে উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসে তুমুল উত্তেজনা
স্বাধীনতা দিবসের সকালে দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে তুমুল উত্তেজনা। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী তথা টিএমসিপির সভানেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠল। শনিবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলেজে গিয়েছিলেন উপাসনা ও তাঁর সঙ্গীরা। সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জানা গিয়েছে, উপাসনা চৌধুরী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য পৌঁছন। কিন্তু তাঁদের কাছে কলেজের পরিচয়পত্র না থাকায় ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকরা তাঁদের সামনে ভিড় না করার জন্য বলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বচসা ও উত্তেজনা।
এরপর আচমকাই উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয় বলে অভিযোগ। একের পর এক ডিম তাঁর মাথা ও গায়ে এসে পড়ে। ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন উপাসনা। তাঁর অভিযোগ, কলেজের ভিতরে বহিরাগতরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়নি। অথচ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য কলেজে যাওয়ায় তাঁদেরই বহিরাগত বলে বাধা দেওয়া হয়েছে।
উপাসনার আরও অভিযোগ, বিজেপি ও এবিভিপির সদস্যরাই তাঁর দিকে ডিম ছুড়েছেন। এমনকী পুলিশের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর কলেজ চত্বরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে।
তবে উপাসনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি ও এবিভিপি। তাদের দাবি, এটি কোনও পরিকল্পিত হামলা নয়, বরং উপাসনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। ফলে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে।
স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে শহরের অন্যতম পরিচিত কলেজে এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কেন পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হল, কারা ডিম ছুড়ল এবং ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর নিয়েই এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

