
প্রেমিকের সঙ্গে ভিডিও কলে ঝগড়ার মাঝেই চরম সিদ্ধান্ত! বাংলাদেশের মডেল রিধিকা রিধির অস্বাভাবিক মৃত্যু
প্রেমিকের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটির মাঝেই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠল বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার একটি আবাসন থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তিকেই রিধিকার প্রেমিক বলে মনে করা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে এক ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন রিধিকা। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় দু’জনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ভিডিও কল চলাকালীনই রিধিকা আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনাটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।বসুন্ধরার একটি আবাসনে ভাড়া থাকতেন রিধিকা। শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকেই তাঁকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ভাটারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।ঘটনার পরই তদন্তে নামে ভাটারা থানার পুলিশ। রিধিকার পরিবারের তরফে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের স্বার্থে রাতে বসুন্ধরা এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তির সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেই পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ভিডিও কলে ঠিক কী নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। ভিডিও কলের সময়কার পরিস্থিতি, দু’জনের কথোপকথন এবং তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য তদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।রিধিকার আসল নাম ছিল লিনা আখতার। বিনোদন জগতে পা রাখার পর তিনি ‘রিধিকা রিধি’ নামে পরিচিতি পান। মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ এবং ‘সুন্দরী’-র মতো নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল।রিধিকার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশের বিনোদন মহলে। সহকর্মীদের অনেকেই তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। একইসঙ্গে পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত এগোলেই গোটা ঘটনার নেপথ্যের তথ্য আরও স্পষ্ট হবে।

