‘শিখা’য় শিক্ষা! নিউ মার্কেটের আরও ২৫ হোটেল-রেস্তরাঁকে শোকজ দমকলের, একের পর এক হোটেলে তালা

কলকাতা: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর এবার আরও কড়া পদক্ষেপ শুরু করল প্রশাসন। শনিবার সকাল থেকে কলকাতা পুরসভা, দমকল বিভাগ এবং নিউ মার্কেট থানার যৌথ অভিযান চলে নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায়। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগে এদিন আরও ২৫টি হোটেল ও রেস্তরাঁকে শোকজ নোটিস দিয়েছে দমকল।
এর আগে বৃহস্পতিবার ১৩টি হোটেল-রেস্তরাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। শুক্রবার আরও ১৭টি হোটেলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার শনিবারের অভিযানে নতুন করে ২৫টি হোটেল ও রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে নোটিস জারি করা হল। ফলে ‘শিখা ইন’ অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেট এলাকায় হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে।
প্রশাসনের পরিদর্শনে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, এলাকার বহু বাড়ি আসলে আবাসিক ভবন হলেও সেখানে হোটেল ব্যবসা চালানোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ বৈধ পুরসভার নথি কিংবা ফায়ার লাইসেন্স দেখাতে পারেনি বলেও জানা গিয়েছে। কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তো নেইই, এমনকী প্রয়োজনীয় জলের ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে।
শনিবার পুলিশ, দমকল ও পুরসভার আধিকারিকরা হোটেলগুলিতে পৌঁছতেই বেশ কয়েকজন মালিককে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে হোটেল পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েই মূলত জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেল বা রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, গত কয়েকদিনের অভিযানে ধর্মতলা চত্বরে ইতিমধ্যেই ১৬টি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে দমকল। শনিবার নতুন করে আরও তিনটি হোটেলে তালা ঝোলানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ১৩টি হোটেল সিল করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এতদিন ধরে নিউ মার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়াই একাধিক হোটেল কীভাবে চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, শুধু শোকজ করে লাভ নেই, বেনিয়ম ধরা পড়লে সরাসরি হোটেল সিল করে দেওয়া উচিত।
এর আগে ‘শিখা ইন’ অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং চারটি রেস্তরাঁ-কাম-পানশালাকে শোকজ করেছিল দমকল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত জবাব চাওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়।
‘শিখা ইন’-এর অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু প্রশাসনের সামনে নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল ব্যবসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তার পরেই একের পর এক অভিযান, শোকজ এবং হোটেল সিল করার ঘটনায় স্পষ্ট যে, এবার অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপের পথেই হাঁটছে প্রশাসন।

error: Content is protected !!