
নেপালের ভয়ংকর হড়পা বানের প্রভাব ভারতে, বিহার-উত্তরপ্রদেশে বাড়ছে উদ্বেগ
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে এবার উদ্বেগ বাড়ছে ভারতেও। বিশেষ করে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকাগুলিতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবেশ করা গণ্ডক, কোশী-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বাড়ছে। নেপালে নারায়ণী নামে পরিচিত নদী ভারতে প্রবেশের পর গণ্ডক নামে পরিচিত হয়। এই নদীর জলপ্রবাহ বেড়ে যাওয়াই বিহারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। নেপাল থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিহারে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং কেন্দ্রের তরফে সমস্ত ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশেও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে গণ্ডক নদীর জলপ্রবাহের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে উত্তরপ্রদেশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত রাজ্যের উপর বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই এবং নদীর জলস্তর বিপৎসীমার নীচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। নেপালের এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। সীমান্তবর্তী এলাকায় হড়পা বানের জেরে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের জেরে হিমবাহ ধস বা বরফ-পাথরের বিশাল স্রোত নদীতে নেমে আসাই এই ভয়াবহ বন্যার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই স্রোতের ধাক্কায় নদীর জলস্তর অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক মিটার বেড়ে যায়। নেপালের পাশাপাশি চিনের তিব্বত সীমান্ত এলাকাতেও বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে। বহু পর্যটক ও বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদেরও অনেকে নিখোঁজ বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ শুধু নদীর জলস্তর বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশাসনের নজর রয়েছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলির জন্য নেপালের বন্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হিমালয় থেকে নেমে আসা একাধিক নদী এই দুই রাজ্যের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উজানে অতিরিক্ত জলপ্রবাহ হলে তার প্রভাব দ্রুত ভাটির দিকে পড়তে পারে। তাই নেপালের পরিস্থিতির উপর নিরন্তর নজর রাখছে ভারতীয় প্রশাসন। আপাতত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। নেপালের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগামী কয়েক ঘণ্টা বিহার ও উত্তরপ্রদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

