
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, ভেসে গেল গ্রাম-রাস্তা, মৃত অন্তত ৮
নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ হড়পা বানে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আচমকা নেমে আসা প্রবল জলস্রোতে রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং-সহ একাধিক এলাকার গ্রাম, রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিব্বত সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয়ের পর বহু মানুষ নিখোঁজ বলে প্রশাসন জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। রসুয়া জেলার স্যাফ্রুবেসি এবং তিমুরে এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ভুটে কোশি নদীর জল হঠাৎ বেড়ে গিয়ে নদীর তীরবর্তী বসতি ও বিভিন্ন পরিকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কাদামাটি ও পাথর মেশানো প্রবল স্রোতে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে নেপাল সেনা, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে নামানো হয়েছে। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার পাঠালেও জলস্তর অত্যন্ত বেশি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করা সম্ভব হয়নি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছনোর কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার জেরে জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ-সহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও ব্যাঘাত ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকজন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। এই হড়পা বানের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। নেপালের জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, হিমবাহ এলাকা থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে যাওয়ার পর আচমকা জল নেমে আসতে পারে। সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিরং এলাকাতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত ও চিনের কাছে উদ্ধারকাজে সহায়তার আবেদন করেছে নেপাল। এদিকে ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন নদীর জলস্তর পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ফলে পাহাড়ি নদী ও সীমান্তবর্তী জনপদে আগাম সতর্কবার্তা এবং দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এই সময়ে প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

