
মূর্তি নদীর উপর ২০ কোটির সেতুর উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, পুজোর মুখে বন্ধ চা বাগান খোলার বার্তা
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মূর্তি নদীর উপর নবনির্মিত সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই সেতু চালু হওয়ায় জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। নতুন সেতুর ফলে লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লুকসান, মহাবাড়ি-সহ একাধিক এলাকার মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হবে। একইসঙ্গে জলঢাকা-বিন্দু, রঙ্গু ও কুমাইয়ের মতো পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছতেও সময় কমবে। দুই প্রান্তের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কমে যাওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন সেতু চালু হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে পারে এবং তার সুফল পাবেন ছোট দোকানদার, গাড়ি পরিষেবা প্রদানকারী এবং অন্যান্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার পর সেতুটির উদ্বোধন হল। নির্মাণকাজ বেশ কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছিল, কিন্তু নির্বাচনী বিধিনিষেধের কারণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। এদিন সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আরও দু’টি সেতু তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কালীখোলা সেতুর পুনর্নির্মাণের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত সেই কাজ শুরু হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। উত্তরবঙ্গ সফরে শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, চা শ্রমিকদের নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া চা বাগানগুলি ফের খোলার জন্য পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাহাড় ও সমতলের চা বাগানের শ্রমিকদের একই হারে বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। চা বাগানগুলির উন্নয়ন এবং বন্ধ বাগান পুনরায় চালুর বিষয়টি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও শ্রমিক পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের সফরে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে যান এবং সেখানে পুজো ও আরতি করেন। পরে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন। এরপর জলপাইগুড়িতে মূর্তি নদীর সেতু উদ্বোধন করেন। সফরের পরবর্তী পর্যায়ে আলিপুরদুয়ারের সুভাষিণী চা বাগানের মাঠে বিশ্ব গন্ডার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানে জলদাপাড়ার দুই হস্তীশাবকের নামকরণ এবং বন দপ্তরের একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে একদিকে নতুন সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বার্তা, অন্যদিকে বন্ধ চা বাগান খোলা ও শ্রমিকদের বোনাস দেওয়ার ঘোষণা—দুই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

