‘বাবা চাইতেন না রাজনীতি করি, তবে ভবিষ্যতে…’, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে কী ইঙ্গিত ছেলের?

প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কলকাতা থেকে রামপুরহাটে ছুটে আসেন একমাত্র ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবার মৃত্যুর শোক সামলাতে না সামলাতেই তাঁকে ঘিরে উঠল আর এক প্রশ্ন—বাবার দেখানো পথেই কি এবার রাজনীতিতে আসবেন তিনি? শতদল জানিয়েছেন, তাঁর বাবা কোনওদিনই চাননি ছেলে রাজনীতিতে আসুক। বরং বারবার তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শতদলও বাবার কথা মেনে এতদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না তিনি।
বাবার মৃত্যুর পর রামপুরহাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে শতদল বলেন, বাবা কোনওদিন চাইতেন না তিনি রাজনীতি করুন। তিনিও এতদিন রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে ছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই মুহূর্তে বাবার মৃত্যুতে তিনি যে মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র ছেলে শতদল পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কলকাতার একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি করেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কলকাতাতেই থাকেন। বাবার মৃত্যুর আগের রাতেও ভিডিও কলে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল শতদলের। শুধু শতদল নন, তাঁর ছেলেমেয়েরাও দাদুর সঙ্গে কথা বলেছিল। কিন্তু তার পরদিন সকালেই আসে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর। মুহূর্তে বদলে যায় পরিবারের পরিস্থিতি।
এদিকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর নেপথ্য কারণ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তাঁর লেখা সুইসাইড নোটে ইঙ্গিত মিলেছে। সেখানে রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছিল বলেও উল্লেখ ছিল বলে জানা গিয়েছে। এমনকী একমাত্র ছেলে যাতে রাজনীতিতে না আসে, সেই কথাও নোটে লেখা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার রামপুরহাটে শতদলের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। তাঁকে সমবেদনা জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, স্নেহাশিস চক্রবর্তীরা। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়। ফলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও শতদল আপাতত সেই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ।
বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে যেন রাজনীতির জটিল জগতে না জড়ান। কিন্তু শতদলের ‘ভবিষ্যতে কী হবে, কিছু বলা যায় না’ মন্তব্য সেই জল্পনাই উসকে দিয়েছে। তবে এখনই রাজনীতিতে তাঁর যোগদানের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বাবার শেষকৃত্য ও পরিবারের শোক কাটিয়ে ওঠাই এই মুহূর্তে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Punchline: বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে রাজনীতিতে না আসুক, কিন্তু আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শতদলের ‘ভবিষ্যতে কী হবে বলা যায় না’ মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে!

error: Content is protected !!