হাসপাতালের বেডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্বামীকে দেখেছিলেন স্ত্রী! বারুইপুরে বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুতে খুনের অভিযোগ

বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ফের এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের স্ত্রী সোনালি নস্করের অভিযোগ, তাঁর স্বামী বাসুদেব নস্করকে হাত-পা বেঁধে হাসপাতালের বেডে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরের দিনই তাঁর মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা। ৪৪ বছর বয়সি বাসুদেবের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বেতবেড়িয়া এলাকায়। ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগে চলতি মাসে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। আদালতের নির্দেশে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেল হেফাজতে ছিলেন বাসুদেব। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বাসুদেবের অসুস্থতার খবর ফোনে পান তাঁর স্ত্রী। খবর পেয়ে প্রথমে জেলে গেলেও সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন সোনালি। তাঁর অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তিনি স্বামীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। সেই দৃশ্য দেখে বাড়ি ফিরে যান তিনি। মঙ্গলবার সকালে ফের হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর মৃত্যুর খবর পান। এরপরই মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে খুনের অভিযোগ করেন সোনালি। তাঁর দাবি, স্বামীর অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সম্পর্কে পরিবারকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ফলে বাসুদেবের মৃত্যুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর একই হাসপাতালের শৌচাগার থেকে আর এক বিচারাধীন বন্দি আজহারুল লস্করের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। একই মাসে একই হাসপাতালে দুই বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বন্দিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরদারি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাসুদেবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।

error: Content is protected !!