
‘স্বাধীনতার পরে সব থেকে বড় দুর্নীতির ঘটনা’, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফােরক শুভেন্দু
“স্বাধীনতার পরে সব থেকে বড় দুর্নীতির ঘটনা । দুর্নীতির মূলে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ।” বুধবার বিকেলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে রাজভবনে আসেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজভবন থেকে বাইরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘পরেশ অধিকারী যোগদানের সময়ে তিনটি শর্ত রেখেছিলেন। প্রথম, সমস্ত নিয়ম ভেঙে তাঁর মেয়েকে চাকরি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করতে হবে। তৃতীয়ত, চ্যাংড়াবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান করতে হচ্ছে তাঁকে।’’ সেই সময় শুভেন্দু শাসকদলের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলে থাকার কারণেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। শুভেন্দু বুধবার বলেন, ‘‘বামপন্থী মানুষ। ফরওয়ার্ড ব্লক করতেন তিনি। কিন্তু কোনও আদর্শগত কারণে তিনি তৃণমূলে যোগ দেননি। দেওয়া-নেওয়ার শর্তের ভিত্তিতে তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়া।’’ শুভেন্দুর আরও দাবি, ‘‘বিনিময়ের ভিত্তিতে পরেশের এই যোগদান তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশ ছাড়া হয়নি। তিনি এও বলেন, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মূল পান্ডা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলে সরাসরি অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন, “যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাদের পাঠানো লিস্ট অনুযায়ী যে নিয়োগ হয়েছে সেই লিস্টগুলোর সবটাই পার্থ চট্টোপাধ্যায় সমন্বয় করে নিয়োগ করেছে।” আদালত বুধবার যে রায় দিয়েছে তার জন্য বিচার ব্যবস্থাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, লোকায়ুক্ত ও মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান এবং আরটিআই কমিশনারের নিয়োগের নবান্নে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানালেন শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং । বুধবার রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ২৩ মে এই তিনটি পদে নিয়োগের জন্য তাঁকে নবান্নে ডাকা হয়েছে । এর আগে বিধানসভায় এই পদগুলি নিয়োগের জন্য যে বৈঠক হয়েছিল তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে তা ঘোষণা করতে হবে । নবান্ন যে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস নয় সেটি মুখ্যমন্ত্রী অবশেষে বুঝেছেন এবং বাধ্য হয়ে বিরোধী দলনেতাকে নবান্নে ডেকেছেন । তাঁর মত, এই তিনটি পদের নিয়োগের পক্ষে তিনি ৷ তবে সম্পূর্ণটা আইন মেনেই এবং সংবিধান মেনেই হতে হবে ৷

